B

Thursday, June 11, 2026

অসমাপ্ত চিঠির ভালোবাসা আরিফ ও নীলা একই কলেজে পড়ত। আরিফ ছিল চুপচাপ স্বভাবের ছেলে, আর নীলা ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়ার সময় আরিফ দূর থেকে নীলাকে দেখত। কিন্তু কখনো নিজের মনের কথা বলতে পারেনি। তাই সে নীলার জন্য চিঠি লিখত, কিন্তু কোনো চিঠিই তাকে দিত না। একদিন নীলা হঠাৎ আরিফকে জিজ্ঞেস করল, — "তুমি এত চুপচাপ কেন?" আরিফ হেসে বলল, — "সব কথা কি মুখে বলা যায়?" নীলা মুচকি হেসে চলে গেল। বছর শেষে নীলার পরিবার অন্য শহরে চলে যায়। বিদায়ের দিন আরিফ তার লেখা সব চিঠি একটি বাক্সে ভরে রেখে দেয়। পাঁচ বছর পর এক বন্ধুর বিয়েতে তাদের আবার দেখা হয়। নীলা অবাক হয়ে বলল, — "তুমি কি আমাকে কোনোদিন কিছু বলতে চেয়েছিলে?" আরিফ বাক্সটি তার হাতে দিয়ে বলল, — "এই চিঠিগুলোই আমার সব কথা।" চিঠিগুলো পড়তে পড়তে নীলার চোখ ভিজে উঠল। সে বলল, — "এতদিন পরে হলেও আমি তোমার উত্তর দিতে এসেছি।" সেদিন তাদের অসমাপ্ত গল্প নতুন করে শুরু হলো
নীল শাড়ির মেয়েটি গ্রামের নাম ছিল শাপলা পাড়া। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত, পাখির ডাক আর শান্ত পরিবেশ। সেই গ্রামেরই এক ছেলে ছিল রাহাত। সে খুব সাধারণ, শান্ত স্বভাবের এবং বই পড়তে ভালোবাসত। একদিন বিকেলে নদীর ঘাটে বসে ছিল রাহাত। হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি মেয়ে। মেয়েটি নীল শাড়ি পরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল। মেয়েটিকে দেখে রাহাতের মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগল। মেয়েটির নাম ছিল মেঘলা। প্রথমে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। শুধু দূর থেকে একে অপরকে দেখত। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা হওয়ার সংখ্যা বাড়তে লাগল। কখনো বাজারে, কখনো স্কুলের সামনে, কখনো নদীর ঘাটে। একদিন সাহস করে রাহাত বলল, — “আপনি কি প্রতিদিন এখানে আসেন?” মেঘলা মুচকি হেসে বলল, — “হ্যাঁ, নদীটা আমার খুব প্রিয়।” সেদিন থেকেই তাদের কথা শুরু হলো। দিন যেতে লাগল। তারা নিজেদের সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের কথা ভাগাভাগি করত। রাহাতের সবচেয়ে ভালো লাগত মেঘলার হাসি। আর মেঘলার ভালো লাগত রাহাতের সরলতা। একদিন সন্ধ্যায় আকাশে লাল সূর্য ডুবে যাচ্ছিল। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে রাহাত বলল, — “মেঘলা, তোমাকে ছাড়া আমার দিনগুলো কল্পনা করতে পারি না।” মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল, — “আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি, রাহাত।” সেই মুহূর্তে যেন পৃথিবীটা আরও সুন্দর হয়ে উঠল। কিন্তু ভালোবাসার পথে সবসময়ই বাধা আসে। মেঘলার পরিবার শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। খবরটা শুনে রাহাত ভেঙে পড়ল। বিদায়ের দিন মেঘলা বলল, — “ভালোবাসা শুধু কাছে থাকার নাম নয়। সত্যিকারের ভালোবাসা অপেক্ষা করতে জানে।” রাহাত তার কথা বিশ্বাস করল। চার বছর কেটে গেল। রাহাত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেল। একদিন হঠাৎ গ্রামের সেই পুরোনো নদীর ঘাটে গিয়ে দাঁড়াল। ঠিক তখনই পিছন থেকে পরিচিত একটি কণ্ঠ ভেসে এল— — “এখনো কি নদীটা তোমার প্রিয়?” রাহাত ঘুরে দেখল, মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেই হাসল। এতদিনের অপেক্ষা, কষ্ট আর ভালোবাসা শেষে তারা আবার এক হয়ে গেল। নদীর ঢেউয়ের মতো তাদের ভালোবাসাও চলতে থাকল—শান্ত, গভীর আর চিরন্তন।❤️🌹

Monday, June 8, 2026

শেষ বিকেলের ভালোবাসা নদীর পাড়ে বসে ছিল আরিফ। সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। হালকা বাতাসে নদীর পানি চিকচিক করছে। ঠিক তখনই সেখানে এসে দাঁড়াল মায়া। — এত চুপচাপ বসে আছ কেন? — মায়া জিজ্ঞেস করল। আরিফ মৃদু হেসে বলল, — কিছু কিছু মুহূর্ত আছে, যা শুধু অনুভব করতে হয়। মায়া তার পাশে বসে পড়ল। দুজনেই কিছুক্ষণ নীরব থাকল। সেই নীরবতায়ও যেন হাজারো কথা লুকিয়ে ছিল। হঠাৎ আরিফ বলল, — জানো, তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, সেদিনই মনে হয়েছিল তুমি আমার জীবনের বিশেষ কেউ হয়ে উঠবে। মায়া অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। — সত্যি? — হ্যাঁ। তোমার হাসিটা দেখেই মনে হয়েছিল, এই হাসির জন্য অনেক কিছু করা যায়। মায়া লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকাল। নদীর ওপরে তখন শেষ বিকেলের আলো পড়ছে। — আর তুমি? — আরিফ জিজ্ঞেস করল। মায়া মৃদু হেসে বলল, — আমি তো অনেক আগেই বুঝেছিলাম, তোমার সাথে কথা না বললে আমার দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে। আরিফের মুখে হাসি ফুটে উঠল। সেদিন নদীর পাড়ে কোনো বড় প্রতিশ্রুতি ছিল না, ছিল না কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। শুধু দুটো হৃদয়ের নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি ছিল। সূর্য ডুবে গেল, আকাশে সন্ধ্যা নামল। কিন্তু তাদের ভালোবাসার গল্প তখনই নতুন করে শুরু হলো।

Saturday, June 6, 2026

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পাঠ শুরু করেন। রায় ঘোষণার আগে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকালে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। একই মামলার আরেক আসামি স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত তারা আদালতের হাজতখানায় অবস্থান করেন। গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি বহুতল ভবনের একটি কক্ষ থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পরদিন পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করলে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। বিচার শুরুর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।

অসমাপ্ত চিঠির ভালোবাসা আরিফ ও নীলা একই কলেজে পড়ত। আরিফ ছিল চুপচাপ স্বভাবের ছেলে, আর নীলা ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়...