B

Monday, June 8, 2026

শেষ বিকেলের ভালোবাসা নদীর পাড়ে বসে ছিল আরিফ। সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। হালকা বাতাসে নদীর পানি চিকচিক করছে। ঠিক তখনই সেখানে এসে দাঁড়াল মায়া। — এত চুপচাপ বসে আছ কেন? — মায়া জিজ্ঞেস করল। আরিফ মৃদু হেসে বলল, — কিছু কিছু মুহূর্ত আছে, যা শুধু অনুভব করতে হয়। মায়া তার পাশে বসে পড়ল। দুজনেই কিছুক্ষণ নীরব থাকল। সেই নীরবতায়ও যেন হাজারো কথা লুকিয়ে ছিল। হঠাৎ আরিফ বলল, — জানো, তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, সেদিনই মনে হয়েছিল তুমি আমার জীবনের বিশেষ কেউ হয়ে উঠবে। মায়া অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। — সত্যি? — হ্যাঁ। তোমার হাসিটা দেখেই মনে হয়েছিল, এই হাসির জন্য অনেক কিছু করা যায়। মায়া লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকাল। নদীর ওপরে তখন শেষ বিকেলের আলো পড়ছে। — আর তুমি? — আরিফ জিজ্ঞেস করল। মায়া মৃদু হেসে বলল, — আমি তো অনেক আগেই বুঝেছিলাম, তোমার সাথে কথা না বললে আমার দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে। আরিফের মুখে হাসি ফুটে উঠল। সেদিন নদীর পাড়ে কোনো বড় প্রতিশ্রুতি ছিল না, ছিল না কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। শুধু দুটো হৃদয়ের নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি ছিল। সূর্য ডুবে গেল, আকাশে সন্ধ্যা নামল। কিন্তু তাদের ভালোবাসার গল্প তখনই নতুন করে শুরু হলো।

Saturday, June 6, 2026

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পাঠ শুরু করেন। রায় ঘোষণার আগে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকালে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। একই মামলার আরেক আসামি স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত তারা আদালতের হাজতখানায় অবস্থান করেন। গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি বহুতল ভবনের একটি কক্ষ থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পরদিন পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করলে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। বিচার শুরুর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।

Thursday, August 28, 2025

আটক লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক হাফিজুরসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবরুদ্ধ করেছেন একদল ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ডিআরইউতেছবি: প্রথম আলো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ আটক ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হতে যাচ্ছে। আটকের ১১ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিআরইউতে একটি গোলটেবিল আলোচনা চলাকালে একদল ব্যক্তি নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাঁরা এই ১৫ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রাত ১১টার দিকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মো. নাসিরুল ইমলাম প্রথম আলোকে বলেন, আটক ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁরা সবাই এখন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে আছেন। সকালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্যরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিতে যান। ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক ছিল ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। তবে তিনি সেখানে ছিলেন না। সকাল ১০টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টায় আলোচনা সভাটি শুরু হয়। আলোচনা সভায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে।’ শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মিছিল নিয়ে একদল ব্যক্তি ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তাঁরা পুলিশের কাছে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ অন্তত ১৫ জনকে তুলে দেন। পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আসাদুজ্জামান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সোয়া ১২টার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যান। গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আল আমিন রাসেল নামের একজন বলেন, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা। এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এমন কিছু আমরা মেনে নেব না।’

Friday, April 18, 2025

“শেষটা এমনি”

“শেষ চিঠি” ছোট্ট এক নদী-ঘেরা শহর। নদীর নাম শীতলেশ্বরী। এই শহরে বসবাস করে দুই প্রাণ – আরিজ ও মায়া। তারা ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছে, স্কুলের বেঞ্চ ভাগ করে নিয়েছে, নদীর ধারে বসে গল্প করেছে, একে অপরের চোখে ভবিষ্যৎ দেখেছে। মায়ার চোখে ছিল স্বপ্ন, আরিজের চোখে ছিল সেই স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। মায়া চেয়েছিল ডাক্তার হতে। আরিজ ছিল এক চিত্রশিল্পী। সে মায়ার প্রতিটি মুহূর্ত ধরে রাখতে ভালোবাসত ক্যানভাসে। মায়া যখন ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকা চলে গেল, আরিজ তাকে প্রতিদিন চিঠি লিখত। তার চিঠিতে থাকত সাহস, ভালোবাসা, আর নদীর কোলঘেঁষে তাদের ফেলে আসা গল্পগুলোর ঝাপসা স্মৃতি। মায়া ভর্তি হলো। ডাক্তারি পড়ার চাপ আর শহরের ব্যস্ততায় চিঠির উত্তর কমতে লাগল। কিন্তু আরিজ লেখা থামায়নি। একদিন, হঠাৎ করেই চিঠি পাঠানো বন্ধ হয়ে গেল। মায়া অনেক চেষ্টা করল যোগাযোগের। বাড়ি ফোন করল, বন্ধুদের জিজ্ঞেস করল, কিন্তু কেউ কিছু জানে না। অবশেষে, তিন মাস পর সে ছুটিতে বাড়ি ফিরল। শীতলেশ্বরীর পাশে বসে থাকা বুড়ো মাঝি তাকে জানাল – “আরিজ তো চলে গেছে মা। ওই ক্যানভাসের মধ্যে তোর মুখ আঁকতে আঁকতেই একদিন হার্ট অ্যাটাক করল। শেষবারের মতো তোর চিঠি পড়েই চুপ হয়ে গেল ছেলেটা।” মায়া ঝড়ের মতো ছুটে গেল আরিজের ঘরে। জানলার পাশে পড়ে থাকা এক খামে লেখা ছিল— "শেষ চিঠি, মায়ার জন্য।" চিঠিতে লেখা ছিল: “মায়া, যদি কখনও ফিরে আসো আর আমায় না পাও, ক্যানভাসগুলো দেখে নিও। আমি তোকে ভালোবাসতাম রঙের চেয়েও বেশি। যদি জন্ম থাকে, শীতলেশ্বরীর ধারে আবার দেখা হবে। শুধু এবার চিঠি নয়, একটা ছবি রেখে যাবো তোর জন্য।” মায়া কান্না চেপে রাখতে পারল না। তার চোখের জলে ভিজে গেল শেষ চিঠির অক্ষরগুলো। সেই দিন থেকেই সে আর ঢাকায় ফেরেনি। আজও, কেউ কেউ দেখে— এক নারী প্রতিদিন শীতলেশ্বরীর ধারে বসে থাকে, একটা পুরোনো চিঠি হাতে। তার চোখে জল নেই, কেবল নদীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি।

Thursday, April 17, 2025

শেষ চিঠি

অবশ্যই, নিচে একটি হৃদয়ছোঁয়া প্রেমের ট্র্যাজেডি গল্প দিলাম, যার নাম **"শেষ চিঠি"**। --- ### **শেষ চিঠি** **লেখক: ChatGPT** ঢাকার ব্যস্ত শহরের এক কোণে, ধানমন্ডির পুরোনো এক বইয়ের দোকানে কাজ করত রায়হান। বই আর শব্দের মধ্যে সে খুঁজে পেত শান্তি। একদিন হঠাৎই দোকানে এলো মেঘলা নামের এক মেয়ে—চোখে ছিল মায়া, মুখে ছিল একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা। প্রথম দেখা থেকেই কিছু একটা বদলে যেতে লাগল রায়হানের ভিতরে। মেঘলার প্রতিটা বই নেয়ার সময়, সে যেভাবে পাতাগুলো ছুঁয়ে দেখত—তাতে মনে হতো, সে যেন বই নয়, কারও স্মৃতি খুঁজে বেড়াচ্ছে। দিন পেরিয়ে গেল, বইয়ের পাতার ফাঁকে জন্ম নিল এক অনুচ্চারিত প্রেম। একদিন সাহস করে রায়হান জিজ্ঞেস করল, — "তুমি এত দুঃখী দৃষ্টিতে বই পড়ো কেন?" মেঘলা হেসে বলেছিল, — "সব বইয়ের একটা শেষ আছে, রায়হান। আর আমিও জানি, আমার গল্পটাও শিগগিরই শেষ হবে।" রায়হান কিছু বুঝে উঠতে পারল না। মেঘলার হাসির আড়ালে যে এক গভীর কান্না লুকানো, সেটা শুধু অনুভব করতে পারল। দু’জনের সম্পর্কটা সময়ের সাথে গাঢ় হলো। একদিন রায়হান সিদ্ধান্ত নিল—সে মেঘলাকে প্রপোজ করবে। একটা চিঠি লিখে রাখল, দোকানের সেই প্রিয় বইয়ের ভিতরে, যেটা মেঘলা প্রায়ই পড়ে। কিন্তু মেঘলা আর আসেনি। সপ্তাহ কেটে গেল, মাস কেটে গেল। একদিন মেঘলার ছোট বোন এল বইয়ের দোকানে। হাতে এক প্যাকেট আর চোখে অশ্রু। — "ভাইয়া, আপু মারা গেছে। ব্লাড ক্যানসার ছিল। আপনাকে কিছু দিয়ে যেতে বলেছিল।" প্যাকেটটা খুলে রায়হান দেখতে পেল—মেঘলার ডায়েরি, আর শেষ পাতায় লেখা: *"রায়হান, তুমি হয়তো কখনো জানবে না, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। কিন্তু আমার সময় ছিল না। তাই তোমার প্রপোজালের অপেক্ষা করতে পারিনি। তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। যদি আবার জন্ম হয়... আমি চাই, সেদিন তুমি চিঠিটা আমাকে আগে দাও।"* চোখের কোনা ভিজে গেল রায়হানের। সে চিঠিটা, যেটা মেঘলার প্রিয় বইয়ের ভেতরে ছিল, সে আর কাউকে দেখাল না। দোকানের এক কোণে, সেই বইটা সে এখনো রেখে দেয়... হয়তো মেঘলা আবার কোনোদিন আসবে, শেষ চিঠিটা পড়তে। --- চাইলে এই গল্পের কোনো অংশ আপনি নিজের মতো করে বদলে নিতে পারেন, বা আমি আরো বড় করে লিখে দিতে পারি। বলবেন?

শেষ বিকেলের ভালোবাসা নদীর পাড়ে বসে ছিল আরিফ। সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। হালকা বাতাসে নদীর পানি চিকচিক করছে। ঠিক তখ...