কবিতা
B
Thursday, June 11, 2026
নীল শাড়ির মেয়েটি
গ্রামের নাম ছিল শাপলা পাড়া। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত, পাখির ডাক আর শান্ত পরিবেশ। সেই গ্রামেরই এক ছেলে ছিল রাহাত। সে খুব সাধারণ, শান্ত স্বভাবের এবং বই পড়তে ভালোবাসত।
একদিন বিকেলে নদীর ঘাটে বসে ছিল রাহাত। হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি মেয়ে। মেয়েটি নীল শাড়ি পরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল। মেয়েটিকে দেখে রাহাতের মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগল।
মেয়েটির নাম ছিল মেঘলা।
প্রথমে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। শুধু দূর থেকে একে অপরকে দেখত। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা হওয়ার সংখ্যা বাড়তে লাগল। কখনো বাজারে, কখনো স্কুলের সামনে, কখনো নদীর ঘাটে।
একদিন সাহস করে রাহাত বলল,
— “আপনি কি প্রতিদিন এখানে আসেন?”
মেঘলা মুচকি হেসে বলল,
— “হ্যাঁ, নদীটা আমার খুব প্রিয়।”
সেদিন থেকেই তাদের কথা শুরু হলো।
দিন যেতে লাগল। তারা নিজেদের সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের কথা ভাগাভাগি করত। রাহাতের সবচেয়ে ভালো লাগত মেঘলার হাসি। আর মেঘলার ভালো লাগত রাহাতের সরলতা।
একদিন সন্ধ্যায় আকাশে লাল সূর্য ডুবে যাচ্ছিল। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে রাহাত বলল,
— “মেঘলা, তোমাকে ছাড়া আমার দিনগুলো কল্পনা করতে পারি না।”
মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল,
— “আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি, রাহাত।”
সেই মুহূর্তে যেন পৃথিবীটা আরও সুন্দর হয়ে উঠল।
কিন্তু ভালোবাসার পথে সবসময়ই বাধা আসে। মেঘলার পরিবার শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। খবরটা শুনে রাহাত ভেঙে পড়ল।
বিদায়ের দিন মেঘলা বলল,
— “ভালোবাসা শুধু কাছে থাকার নাম নয়। সত্যিকারের ভালোবাসা অপেক্ষা করতে জানে।”
রাহাত তার কথা বিশ্বাস করল।
চার বছর কেটে গেল।
রাহাত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেল। একদিন হঠাৎ গ্রামের সেই পুরোনো নদীর ঘাটে গিয়ে দাঁড়াল। ঠিক তখনই পিছন থেকে পরিচিত একটি কণ্ঠ ভেসে এল—
— “এখনো কি নদীটা তোমার প্রিয়?”
রাহাত ঘুরে দেখল, মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে।
দুজনেই হাসল।
এতদিনের অপেক্ষা, কষ্ট আর ভালোবাসা শেষে তারা আবার এক হয়ে গেল। নদীর ঢেউয়ের মতো তাদের ভালোবাসাও চলতে থাকল—শান্ত, গভীর আর চিরন্তন।❤️🌹
Monday, June 8, 2026
শেষ বিকেলের ভালোবাসা
নদীর পাড়ে বসে ছিল আরিফ। সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। হালকা বাতাসে নদীর পানি চিকচিক করছে।
ঠিক তখনই সেখানে এসে দাঁড়াল মায়া।
— এত চুপচাপ বসে আছ কেন? — মায়া জিজ্ঞেস করল।
আরিফ মৃদু হেসে বলল,
— কিছু কিছু মুহূর্ত আছে, যা শুধু অনুভব করতে হয়।
মায়া তার পাশে বসে পড়ল। দুজনেই কিছুক্ষণ নীরব থাকল। সেই নীরবতায়ও যেন হাজারো কথা লুকিয়ে ছিল।
হঠাৎ আরিফ বলল,
— জানো, তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, সেদিনই মনে হয়েছিল তুমি আমার জীবনের বিশেষ কেউ হয়ে উঠবে।
মায়া অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।
— সত্যি?
— হ্যাঁ। তোমার হাসিটা দেখেই মনে হয়েছিল, এই হাসির জন্য অনেক কিছু করা যায়।
মায়া লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকাল। নদীর ওপরে তখন শেষ বিকেলের আলো পড়ছে।
— আর তুমি? — আরিফ জিজ্ঞেস করল।
মায়া মৃদু হেসে বলল,
— আমি তো অনেক আগেই বুঝেছিলাম, তোমার সাথে কথা না বললে আমার দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে।
আরিফের মুখে হাসি ফুটে উঠল।
সেদিন নদীর পাড়ে কোনো বড় প্রতিশ্রুতি ছিল না, ছিল না কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। শুধু দুটো হৃদয়ের নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি ছিল।
সূর্য ডুবে গেল, আকাশে সন্ধ্যা নামল। কিন্তু তাদের ভালোবাসার গল্প তখনই নতুন করে শুরু হলো।
Sunday, June 7, 2026
Saturday, June 6, 2026
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পাঠ শুরু করেন।
রায় ঘোষণার আগে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকালে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। একই মামলার আরেক আসামি স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত তারা আদালতের হাজতখানায় অবস্থান করেন।
গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি বহুতল ভবনের একটি কক্ষ থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পরদিন পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করলে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
বিচার চলাকালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। বিচার শুরুর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
Thursday, August 28, 2025
আটক লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক হাফিজুরসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে
সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবরুদ্ধ করেছেন একদল ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ডিআরইউতেছবি: প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ আটক ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হতে যাচ্ছে। আটকের ১১ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিআরইউতে একটি গোলটেবিল আলোচনা চলাকালে একদল ব্যক্তি নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাঁরা এই ১৫ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
রাত ১১টার দিকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মো. নাসিরুল ইমলাম প্রথম আলোকে বলেন, আটক ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁরা সবাই এখন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে আছেন।
সকালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্যরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিতে যান। ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক ছিল ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। তবে তিনি সেখানে ছিলেন না। সকাল ১০টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টায় আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
আলোচনা সভায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে।’
শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মিছিল নিয়ে একদল ব্যক্তি ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তাঁরা পুলিশের কাছে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ অন্তত ১৫ জনকে তুলে দেন।
পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আসাদুজ্জামান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সোয়া ১২টার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যান।
গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আল আমিন রাসেল নামের একজন বলেন, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা। এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এমন কিছু আমরা মেনে নেব না।’
Wednesday, July 30, 2025
Friday, April 18, 2025
“শেষটা এমনি”
“শেষ চিঠি”
ছোট্ট এক নদী-ঘেরা শহর। নদীর নাম শীতলেশ্বরী। এই শহরে বসবাস করে দুই প্রাণ – আরিজ ও মায়া। তারা ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছে, স্কুলের বেঞ্চ ভাগ করে নিয়েছে, নদীর ধারে বসে গল্প করেছে, একে অপরের চোখে ভবিষ্যৎ দেখেছে।
মায়ার চোখে ছিল স্বপ্ন, আরিজের চোখে ছিল সেই স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
মায়া চেয়েছিল ডাক্তার হতে। আরিজ ছিল এক চিত্রশিল্পী। সে মায়ার প্রতিটি মুহূর্ত ধরে রাখতে ভালোবাসত ক্যানভাসে। মায়া যখন ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকা চলে গেল, আরিজ তাকে প্রতিদিন চিঠি লিখত। তার চিঠিতে থাকত সাহস, ভালোবাসা, আর নদীর কোলঘেঁষে তাদের ফেলে আসা গল্পগুলোর ঝাপসা স্মৃতি।
মায়া ভর্তি হলো। ডাক্তারি পড়ার চাপ আর শহরের ব্যস্ততায় চিঠির উত্তর কমতে লাগল। কিন্তু আরিজ লেখা থামায়নি।
একদিন, হঠাৎ করেই চিঠি পাঠানো বন্ধ হয়ে গেল।
মায়া অনেক চেষ্টা করল যোগাযোগের। বাড়ি ফোন করল, বন্ধুদের জিজ্ঞেস করল, কিন্তু কেউ কিছু জানে না। অবশেষে, তিন মাস পর সে ছুটিতে বাড়ি ফিরল।
শীতলেশ্বরীর পাশে বসে থাকা বুড়ো মাঝি তাকে জানাল – “আরিজ তো চলে গেছে মা। ওই ক্যানভাসের মধ্যে তোর মুখ আঁকতে আঁকতেই একদিন হার্ট অ্যাটাক করল। শেষবারের মতো তোর চিঠি পড়েই চুপ হয়ে গেল ছেলেটা।”
মায়া ঝড়ের মতো ছুটে গেল আরিজের ঘরে। জানলার পাশে পড়ে থাকা এক খামে লেখা ছিল—
"শেষ চিঠি, মায়ার জন্য।"
চিঠিতে লেখা ছিল:
“মায়া,
যদি কখনও ফিরে আসো আর আমায় না পাও, ক্যানভাসগুলো দেখে নিও। আমি তোকে ভালোবাসতাম রঙের চেয়েও বেশি। যদি জন্ম থাকে, শীতলেশ্বরীর ধারে আবার দেখা হবে। শুধু এবার চিঠি নয়, একটা ছবি রেখে যাবো তোর জন্য।”
মায়া কান্না চেপে রাখতে পারল না। তার চোখের জলে ভিজে গেল শেষ চিঠির অক্ষরগুলো। সেই দিন থেকেই সে আর ঢাকায় ফেরেনি।
আজও, কেউ কেউ দেখে—
এক নারী প্রতিদিন শীতলেশ্বরীর ধারে বসে থাকে, একটা পুরোনো চিঠি হাতে। তার চোখে জল নেই, কেবল নদীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি।
Subscribe to:
Posts (Atom)
নীল শাড়ির মেয়েটি গ্রামের নাম ছিল শাপলা পাড়া। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত, পাখির ডাক আর শান্ত পরিবেশ। সেই গ্রামেরই এক ছেলে ছিল রাহাত। সে খুব সাধা...
-
সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবরুদ্ধ করেছেন একদল ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ডিআরইউতেছবি: প্রথম আলো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সদস্য...
-
“শেষ চিঠি” ছোট্ট এক নদী-ঘেরা শহর। নদীর নাম শীতলেশ্বরী। এই শহরে বসবাস করে দুই প্রাণ – আরিজ ও মায়া। তারা ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছে, ...





